লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশন | শিরোনাম.নেট

লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশন | শিরোনাম.নেট

 

তখনো চালু হয়নি যমুনা টিভি। তবে ভেতরে টিভির পুরো পরিবার কাজ নিয়ে পরিকল্পনা করছে। এ রকমই একটি পরিকল্পনায় ইনভেস্টিগেশন টিমের প্রায় সব সদস্য। কে কী করবেন এবং বিশেষ করে প্রথম পর্যায়ের কাজ দিয়ে যেন সবাইকে তাক লাগিয়ে দেয়া যায়, এ রকম পরিকল্পনা সবার ভেতর।

সবাই যার যার মতামত দিচ্ছিলেন। আমার বেলায় জানতে চাওয়া হলো, কী পরিকল্পনা?

কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললাম, আপনারা বিষয় দিন-আমি কাজ করব। পাশ থেকে সহকর্মী ইমতিয়াজ সনি বলে উঠল, চলচ্চিত্র জগৎ নিয়ে একটা কাজ করা যেতে পারে। যেই কথা সেই কাজ। মুহূর্তেই পরিকল্পনা মিটিংয়ে বিষয়টি পাস হয়ে গেল। এরপর কাজে নামলাম…

বলে রাখা ভালো, অনুসন্ধানী টিমের সবাই কাজে নামার আগে এ রকম আরো বেশ কিছু গোপনীয় পরিকল্পনা করি। যাতে কাজটি করতে কোনো সমস্যা না হয় এবং কি কি সমস্যা হতে পারে কিংবা হলে কোন উপায়ে সেটি উতরাতে হবে। মিটিংয়ের আরেকটি শর্ত হচ্ছে, কোনভাবেই ভেতরের তথ্য ফাঁস না করা।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাজধানীর বেশ কিছু এলাকায় রেকির (মাঠ পর্যায়ের কাজ) কাজ শুরু হলো। এর মধ্যে ব্যস্ত শহরে ফার্মগেটের ওভারব্রিজ দিয়ে পার হচ্ছিলাম। ঠিক এই সময় ছোট্ট একটি ব্যানারে টানানো বিজ্ঞাপনে চোখ আটকে গেল। যেখানে লিখা রয়েছে “অভিনয় করতে চান”? তাহলে যোগাযোগ করুন। সেই যোগাযোগ শুরু। মানে অভিনয়ের নামে কি হয়, সেই বাস্তবতা তুলে ধরাই ছিল এই অনুসন্ধান মুল উদ্দেশ্য। যেটি পরে যমুনা টেলিভিশনে লাইট, ক্যামেরা, এ্যাকশন… শিরোনামে প্ররাচিত হয়।

কাজ করতে গিয়ে নিজেরে লুক পরিবর্তন করতে হয়েছে। মডেলিং স্টাইলে ছবি তোলা ছবি জমা দিতে হয়েছে। পুরো কাজ করতে গিয়ে গুলিস্তান এবং হাজারীবাগ এলাকার আরো দুটি ক্যারেক্টরকে ফলো করতে শুরু করলাম। পুরো কাজটি করতে দু’জন তরুণী সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। যে দুই তরুণীর নাম-পরিচয়ও আমরা পরবর্তীতে গোপন রাখি। সহযোগী হিসাবে পুরো টিম ছিল পাশে। আর কাজটি করতে আমাদের সময় লেগেছিল প্রায় দেড় মাস।

বিজ্ঞাপনে দেয়া মোবাইল নম্বরে রিং দিতেই অপর পাশ থেকে ভদ্রলোক আগ্রহ দেখালেন। আমি অভিনয় করতে চাই জানালাম। ছবি, দুইশ’ টাকা এবং আবেদন ফরমসহ যোগাযোগ করতে বললেন। শুরু হলো এই ভদ্রলোককে ফলো করা। ক’দিন না যেতেই আবার রিং দিলাম। কিন্তু এবার তিনি কেন জানি খুব একটা গুরুত্ব দিলেন না। তার এমন আচরণে আমার সন্দেহের সৃষ্টি হলো। সেই রহস্য খুঁজতে অজ্ঞাত সেই তরুণীকে দিয়ে যোগাযোগ করলাম। বেশ কাজে দিল। মনে হলো কাজটার সফল সমাপ্তি ঘটবে…

সবশেষে হলোও তাই। ফার্মগেটের কথিত পরিচালক অভিনেত্রী বানানোর নামে আমাদের পাঠানো তরুণীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়তে চাইলেন। ওই কাজে গুলিস্তানের বেঙ্গল ব্রুস আর হাজারীবাগের এডফ খান নামে দুটি চরিত্রও দেখিয়েছি। এই দুটি চরিত্রের দোষও প্রায় একই রকম।

দর্শকদের মাথায় রেখে করা এই কাজ সেই সময় বিপুল জনপ্রিয়তা পায়। যেখানে অভিনয় জগতে কি হয়, তার বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছিল। অর্থাৎ রঙিন জগৎ নিয়ে সাধারণ মানুষ তথা তরুণ-তরুণীদের বিপুল আগ্রহকে টার্গেট করে যে ফাঁদ পাতা হয়, সেটি উঠে আসে। যেখানে রঙিন জগতের অন্ধকার গলিপথটি খুঁজে বের করাই ছিল এই কাজের মূল উদ্দেশ্য।

কাজে নেমে পরিকল্পনামতো নিজেকেই অভিনয়ের ভান করতে হয়েছে। কিন্তু প্রত্যেকটি জায়গাতেই ছেলে হিসেবে আমি বিফল হচ্ছিলাম, অথবা কেন জানি নানাভাবে সময়ক্ষেপণ হচ্ছিল। অন্যদিকে একই সাথে হাটা তরুণী প্রতি জায়গাতেই বিশেষভাবে সফলতার আলো দেখতে পাচ্ছিলেন। যাতে করে আমাদেরও বুঝতে সমস্যা হয়নি। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার অংশ হিসাবে পুরো বিষয়টি ভিজ্যুয়ালি রেকর্ড রেখেছি, রেখেছি সব ধরনের তথ্য প্রমানও। যাতে কোনভাবেই নিজের অনৈতিকতার কথা অস্বীকার করতে না পারে। যদিও সবশেষে আইনের মুখোমুখি হতে হয়েছে একজনকে।

ভদ্রতার পরিচয়ে মুখোশ পড়া আসল চেহারা বেরিয়ে আসে ওই তিন পরিচালকের।

 

লেখক : ফয়সাল আলম, চ্যানেল 24

[এই সাইটে প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। শিরোনাম.নেট এর সম্পাদকীয় নীতি ও মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য শিরোনা.নেট কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।]

print

347 total views, 5 views today





কপিরাইট © ২০১৯ শিরোনাম.নেট সকল অধিকার সংরক্ষিত
Design BY NewsTheme
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com