সংবাদ শিরোনাম থেকে বেঁচে গেলো আমার স্ত্রী-কন্যা

সংবাদ শিরোনাম থেকে বেঁচে গেলো আমার স্ত্রী-কন্যা

 

মুক্তবাক : সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মেয়েকে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন আমার স্ত্রী। গ্রিন রোডে। এই সড়কে অর্থাৎ ফার্মগেট থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত যে লেগুনাগুলো চলে, সেগুলোয় যাদের চড়ার বা দেখার অভিজ্ঞতা আছে তারা জানেন, এরা কত বেপরোয়া। ওরা সবাইকে পেছনে ফেলে পরবর্তী ট্রিপ ধরার জন্য সবকিছু ভেঙেচুরে চলে যেতে চায়। এই লেগুনাগুলো যারা চালায়, খেয়াল করে দেখেছি একটা বড় অংশই অল্প বয়স্ক এবং আমার দৃঢ় বিশ্বাস এদের কারোরই লাইসেন্স নেই এবং অবশ্যই এই লেগুনাগুলো অবৈধ। রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে এরকম অবৈধ যানবাহন এবং লাইসেন্সবিহীন চালক কী করে এত বেপরোয়াভাবে চলে, সে প্রশ্নের জবাব এখানে দিচ্ছি না। তাতে অনেকে বিরাগভাজন হবেন। শুধু আজকে সকালের ঘটনাটি বলি।

স্ত্রী ফোন করে জানালেন, তারা পান্থপথ মোড় থেকে রিকশায় স্কুলের দিকে যাচ্ছিলেন। পেছন থেকে তাদের রিকশাকে সজোরে ধাক্কা দেয় একটি লেগুনা (নং ১১১০৯৬)। যেভাবে ধাক্কা দিয়েছে তাতে তাদের দুজনেরই ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত কিংবা গুরুতর আহত হওয়ার কথা। কিন্তু তারা সামান্য আঘাত পেয়েছেন এবং বলা যায় যে এটা মিরাকল। সৃষ্টিকর্তার বিশেষ কৃপা ছাড়া এরকম ঘটনায় সুস্থ থাকা অসম্ভব।

এখন কথা হচ্ছে, এটি নতুন কোনো ঘটনা কি না? এই সড়কেই আমার বাসা। ফলে এই লেগুনাগুলোর বেপরোয়া আচরণ প্রতিনিয়ত চোখের সামনে দেখি এবং মুখ বুজে সহ্য করি। কারণ যারা এগুলো চালায় এবং যারা এদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা নেয়, এই সমাজ ও রাষ্ট্রে তারা আমার চেয়ে হাজার গুণ বেশি শক্তিশালী। ফলে এদের বিরুদ্ধে কিছু বলা মানে শুধু শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়াই নয়, আরও বড় বিপদ ডেকে আনা।

তাহলে সমাধান কী? সমাধান যে নেই তার কারণ, আপনাদের মনে থাকবার কথা, গত বছরের আগস্টে নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্রদের আন্দোলনের সময় ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার ঘোষণা দিয়ে বলেছিলেন, রাজধানীর ভেতরে এইসব অবৈধ লেগুনা চলবে না। কিছুদিন বন্ধও ছিল। কিন্তু তারপর তারা আবার রাস্তায় নেমেছে। এর একটি কারণ এই যে, এইসব সড়কে লেগুনার বিকল্প বাহন নিশ্চিত করা যায়নি। অর্থাৎ বৈধ বাহন নেই বলে অবৈধ বাহন চলবে। কী দুর্দান্তু নগরব্যবস্থা! কী দুর্দান্ত রুল অব ল !!

সম্প্রতি এই রুটের অর্ধেক পথে, অর্থাৎ সায়েন্স ল্যাব থেকে নিউ মার্কেট নীলক্ষেত হয়ে আজিমপুর পর্যন্ত রিকশাও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তাহলে যাদের ব্যক্তিগত গাড়ি নেই তারা কীভাবে যাতায়াত করবে? নাগরিকের এই অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়েই লেগুনার মতো অবৈধ ও বেপরোয়া যানবাহন রাজধানীতে রাজত্ব করে বেড়ায় এবং এখান থেকে প্রচুর চাঁদা উপরমহলে চলে যায়। কাদের কাছে যায় তার কিছু নামও বলতে পারি। কিন্তু ফেসবুকের মতো পাবলিক প্লেসে সেটা বলছি না।

আগে দেখতাম এগুলো ফার্মগেটে আনন্দ সিনেমা হলের সামনে থাকতো। এখন এরা সারাক্ষণ আমার বাসার কাছে গ্রিন সুপার মার্কেটের উল্টো দিকে মেইন রোডে পার্ক করে রাখে। পুরো রাস্তার অর্ধেক তাদের দখলে। কে এর প্রতিবাদ করবে? জানি প্রতিবাদ করে কোনো ফল হবে না। তাই ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে ঘটনাটি জানালাম। এখন দেখতে চাই, এই ৯৯৯ নাগরিকের জীবন নিরাপদ করতে আসলে কতটা ভূমিকা রাখে।

 

লেখক : আমীন আল রশীদের ফেসবুক ওয়াল থেকে নেয়া

print

599 total views, 5 views today





কপিরাইট © ২০১৯ শিরোনাম.নেট সকল অধিকার সংরক্ষিত
Design BY NewsTheme
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com